ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




হাঁস পালনে নানা সংকটে তরুণ উদ্যোক্তা

সুরুজ্জামান মিয়া, ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ ৭০৫ বার পঠিত
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

হাঁস পালনে নানা সংকটে তরুণ উদ্যোক্তা

সুরুজ্জামান মিয়া, ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চর গাবসারার মোঃ সুরুজ্জামান পিতাঃ মোঃ আজমত আলী একজন হাঁস পালনের উদ্যোক্তা।তিনি হাঁস পালনে নানা সমস্যার সম্মুক্ষিন হয়েছেন ।

তার দেওয়া সাক্ষ্যাৎকারে তিনি জানান, চাকুরী ছেড়ে তিনি হাঁস পালনের পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা অনুয়ায়ী তিনি হাঁস পালন শুরু করেন। শুরুতে ৪০০-৫০০ হাঁস নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করলেও বর্তমানে বিভিন্নভাবে অর্থসংস্থান করে তার খামারে প্রায় ২৪০০ এর মতো হাঁস রয়েছে।যার বাজার মূল্য প্রায় ১০,০০,০০/-(দশ লক্ষ টাকা)।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু টু তারাকান্দি রেলওয়ের ভূঞাপুর স্টেশনের নিকটবর্তী নিকলা বিলের রেললাইনের ঢালে তাবু টেনে হাঁসগুলো অস্থায়ীভাবে পালন করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন শামুক, ঝিনুক, পোকা-মাকড়,ঘাস ফড়িং ইত্যাদি। ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আলাদা ধানের বস্তাও দেখা যায়। হাঁসগুলো সকালে খামার হতে বের করার পর তাবু সরানো হয়। ফলে হাসেঁর আবাস্থল শুকিয়ে টনটনে হয়। এক কর্মী বলে, শীতের চেয়ে কুয়াশা হাসের বেশি ক্ষতি করে তাই তাবু টানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাঁস মালিক জানান, এসময় হাসেঁর ডিম দেওয়ার সময় হলেও পর্যাপ্ত ডিম খামার হতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোকসানের পরিমাণ গুনতে হচ্ছে। চারজন শ্রমিকের বেতন জনপ্রতি ৮০০০/- খেকে ১০,০০০/- (টাকা)গুনতে হচ্ছে। ভ্যাকসিন ও টিকার খরচ আছে। শ্রমিকদের খাবার খরচ আমার উপরই। ডিমের সিজন এখন হলেও যেখানে দিনে ১৩০০০-১৪০০ ডিম পাওয়ার কথা সেখানে দিনে ১০০ ডিমও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের বাজার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে।  খাবারও ঠিকমতে পাচ্ছে। বুঝতেছিনা কি করবো।

বর্তমানে তার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে জানান, আপাতত এগুতে পারছিনা। ব্যবসা বানিজ্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা ব্যতিত একা সম্ভব না। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যেশ্যে বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবক তারা করতে পারে তবে অর্থসংস্থান, মূলধন রিকভারী, ঝুকিঁ গ্রহণ, ঝুকি পরিমাপ, ঝণ ও ঝনের সুদ বিভেচনা করতে হবে।ব্যবসায়িক সফলতা রাষ্ট্রের উপরও নির্ভর করে। সরকারি সহযোগিতা ব্যতিত একা এগুনো করা সম্ভব না।

উপজেলা কৃষি অফিস বা প্রানি সম্পদ অফিস হতে কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা তার প্রশ্নের উত্তরে উদ্যোক্তা বলেন, আমাকে প্রানি সম্পদ অফিস হতে বিকাশ একাউন্ট করতে বলেছেন আমি তা করেছি ও বিকাশ নম্বর জমা দিয়েছি। হাসেঁর টিকা বা সরকারি কোন ভ্যাকসিন পাইনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন চন্দ্র দেবনাথের সাথে যোগাযোগ করার জন্য গেলে তাকে পাওয়া যায় নি। ঐ সময়ে উপস্থিত এক কর্মচারী জানান, আপনে আসার এই ১০ মিনিট পূর্বে সার চলে গেলেন। উদ্যোক্তা সুরুজ্জামানের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি তিনি রেজিস্ট্রী বা নিবন্ধন করে থাকেন তবে তাকে সহযোগিতা করা যাবে। হাসেঁর রোগ বালাইয়ের ভ্যাকসিন, টিকা ও পরামর্শ দেওয়া যাবে। উনি বিকাশ একাউন্ট নম্বর জমা যদি দিয়ে থাকেন তবে সরকার থেকে কোন অনুদান আসলে তাকে দেয়া হবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

ট্যাগস :




ফেসবুকে আমরা




x

হাঁস পালনে নানা সংকটে তরুণ উদ্যোক্তা

প্রকাশিত : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০
print news

হাঁস পালনে নানা সংকটে তরুণ উদ্যোক্তা

সুরুজ্জামান মিয়া, ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চর গাবসারার মোঃ সুরুজ্জামান পিতাঃ মোঃ আজমত আলী একজন হাঁস পালনের উদ্যোক্তা।তিনি হাঁস পালনে নানা সমস্যার সম্মুক্ষিন হয়েছেন ।

তার দেওয়া সাক্ষ্যাৎকারে তিনি জানান, চাকুরী ছেড়ে তিনি হাঁস পালনের পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা অনুয়ায়ী তিনি হাঁস পালন শুরু করেন। শুরুতে ৪০০-৫০০ হাঁস নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করলেও বর্তমানে বিভিন্নভাবে অর্থসংস্থান করে তার খামারে প্রায় ২৪০০ এর মতো হাঁস রয়েছে।যার বাজার মূল্য প্রায় ১০,০০,০০/-(দশ লক্ষ টাকা)।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু টু তারাকান্দি রেলওয়ের ভূঞাপুর স্টেশনের নিকটবর্তী নিকলা বিলের রেললাইনের ঢালে তাবু টেনে হাঁসগুলো অস্থায়ীভাবে পালন করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন শামুক, ঝিনুক, পোকা-মাকড়,ঘাস ফড়িং ইত্যাদি। ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আলাদা ধানের বস্তাও দেখা যায়। হাঁসগুলো সকালে খামার হতে বের করার পর তাবু সরানো হয়। ফলে হাসেঁর আবাস্থল শুকিয়ে টনটনে হয়। এক কর্মী বলে, শীতের চেয়ে কুয়াশা হাসের বেশি ক্ষতি করে তাই তাবু টানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাঁস মালিক জানান, এসময় হাসেঁর ডিম দেওয়ার সময় হলেও পর্যাপ্ত ডিম খামার হতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোকসানের পরিমাণ গুনতে হচ্ছে। চারজন শ্রমিকের বেতন জনপ্রতি ৮০০০/- খেকে ১০,০০০/- (টাকা)গুনতে হচ্ছে। ভ্যাকসিন ও টিকার খরচ আছে। শ্রমিকদের খাবার খরচ আমার উপরই। ডিমের সিজন এখন হলেও যেখানে দিনে ১৩০০০-১৪০০ ডিম পাওয়ার কথা সেখানে দিনে ১০০ ডিমও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের বাজার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে।  খাবারও ঠিকমতে পাচ্ছে। বুঝতেছিনা কি করবো।

বর্তমানে তার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে জানান, আপাতত এগুতে পারছিনা। ব্যবসা বানিজ্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা ব্যতিত একা সম্ভব না। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যেশ্যে বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবক তারা করতে পারে তবে অর্থসংস্থান, মূলধন রিকভারী, ঝুকিঁ গ্রহণ, ঝুকি পরিমাপ, ঝণ ও ঝনের সুদ বিভেচনা করতে হবে।ব্যবসায়িক সফলতা রাষ্ট্রের উপরও নির্ভর করে। সরকারি সহযোগিতা ব্যতিত একা এগুনো করা সম্ভব না।

উপজেলা কৃষি অফিস বা প্রানি সম্পদ অফিস হতে কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা তার প্রশ্নের উত্তরে উদ্যোক্তা বলেন, আমাকে প্রানি সম্পদ অফিস হতে বিকাশ একাউন্ট করতে বলেছেন আমি তা করেছি ও বিকাশ নম্বর জমা দিয়েছি। হাসেঁর টিকা বা সরকারি কোন ভ্যাকসিন পাইনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন চন্দ্র দেবনাথের সাথে যোগাযোগ করার জন্য গেলে তাকে পাওয়া যায় নি। ঐ সময়ে উপস্থিত এক কর্মচারী জানান, আপনে আসার এই ১০ মিনিট পূর্বে সার চলে গেলেন। উদ্যোক্তা সুরুজ্জামানের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি তিনি রেজিস্ট্রী বা নিবন্ধন করে থাকেন তবে তাকে সহযোগিতা করা যাবে। হাসেঁর রোগ বালাইয়ের ভ্যাকসিন, টিকা ও পরামর্শ দেওয়া যাবে। উনি বিকাশ একাউন্ট নম্বর জমা যদি দিয়ে থাকেন তবে সরকার থেকে কোন অনুদান আসলে তাকে দেয়া হবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।