ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




লালমনিরহাটের সেই অনুমোদনহীন ক্লিনিক খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি

জি এম রাব্বী , লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত : ০৯:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৮০ বার পঠিত
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জি এম রাব্বী , লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অনুমোদনহীন হেলথ এন্ড মেডিকেয়ার ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে তদন্তে এসেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদন্ত কমিটি। অনুমোদনহীন এ ক্লিনিক নিয়ে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে আসেন স্বাস্থ্য বিভাগের এ তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনে। দুপুরের পরে ওই ক্লিনিক সড়ে জমিনে পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কমিটি।

তদন্ত শেষে ওই কমিটি’র প্রধান ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায় গণমাধ্যমকে জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক চলার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও এ ক্লিনিক চলছে কি ভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি মধ্যরাতে ওই ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরে ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাটি নিয়ে ওই সময় নবজাতকের পরিবার অভিযোগ তুললে রাতেই স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতার হস্তক্ষেপে মিমাংশাও হয়। অপারেশনটি করেন ওই ক্লিনিকের আবাসিক সার্জন দাবীদার ডাঃ রাজিবুল হাসান।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে ডাঃ রাজিবুল হাসান তার চিকিৎসা পত্রে নিজেকে এমবিবিএস (রাজ), সি-আল্টা ও পিজিটি-সার্জারী দাবী করলেও তার বিএমডিসি রেজি নং খুঁজে দেখা যায় ভিন্ন তথ্য। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক মাত্র। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার বড় সারালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আফজাল হোসেন।

জানা গেছে, সিজারের মত অপারেশন করতে গেলে চিকিৎসককে অবশ্যই গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হতে হবে। এ ছাড়া একটি সিজার অপারেশনে একজন গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন, একজন অবস বিশেষজ্ঞসহ একজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকবে অপারেশন থিয়েটারে। সেটির কোনো কিছুই মানা হয় না এ ক্লিনিকে। ওই ক্লিনিকে শুধু ডাঃ রাজিবুল হাসান নামে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্স অপারেশন থিয়েটারে সব কিছু করেন।
অনুমোদনহীন ওই ক্লিনিক নিয়ে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও অনুমোদনহীন ওই ক্লিনিক বন্ধ না হওয়ায় এ নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মাঝে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

গত ২৭ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু রায় এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায়কে সভাপতি ও হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র মেডিক্যাল অফিসার (এমওডিসি) ডা.আরিফুল ইসলামকে সদস্য করে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর তদন্ত করেন ওই তদন্ত কমিটি।

তদন্ত শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায়। তিনি বলেন, অনুমোদনহীন ক্লিনিক চলার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি টিনশেট ঘরেও ক্লিনিক তৈরীর সুযোগ নেই। তারপরও এ ক্লিনিক চলছে কি ভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রæত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জন বরাবর প্রেরণ করা হবে।




ফেসবুকে আমরা







x

লালমনিরহাটের সেই অনুমোদনহীন ক্লিনিক খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত : ০৯:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
print news

জি এম রাব্বী , লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অনুমোদনহীন হেলথ এন্ড মেডিকেয়ার ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে তদন্তে এসেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদন্ত কমিটি। অনুমোদনহীন এ ক্লিনিক নিয়ে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে আসেন স্বাস্থ্য বিভাগের এ তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনে। দুপুরের পরে ওই ক্লিনিক সড়ে জমিনে পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কমিটি।

তদন্ত শেষে ওই কমিটি’র প্রধান ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায় গণমাধ্যমকে জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক চলার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও এ ক্লিনিক চলছে কি ভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি মধ্যরাতে ওই ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরে ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাটি নিয়ে ওই সময় নবজাতকের পরিবার অভিযোগ তুললে রাতেই স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতার হস্তক্ষেপে মিমাংশাও হয়। অপারেশনটি করেন ওই ক্লিনিকের আবাসিক সার্জন দাবীদার ডাঃ রাজিবুল হাসান।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে ডাঃ রাজিবুল হাসান তার চিকিৎসা পত্রে নিজেকে এমবিবিএস (রাজ), সি-আল্টা ও পিজিটি-সার্জারী দাবী করলেও তার বিএমডিসি রেজি নং খুঁজে দেখা যায় ভিন্ন তথ্য। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক মাত্র। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার বড় সারালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আফজাল হোসেন।

জানা গেছে, সিজারের মত অপারেশন করতে গেলে চিকিৎসককে অবশ্যই গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হতে হবে। এ ছাড়া একটি সিজার অপারেশনে একজন গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন, একজন অবস বিশেষজ্ঞসহ একজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকবে অপারেশন থিয়েটারে। সেটির কোনো কিছুই মানা হয় না এ ক্লিনিকে। ওই ক্লিনিকে শুধু ডাঃ রাজিবুল হাসান নামে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্স অপারেশন থিয়েটারে সব কিছু করেন।
অনুমোদনহীন ওই ক্লিনিক নিয়ে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও অনুমোদনহীন ওই ক্লিনিক বন্ধ না হওয়ায় এ নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মাঝে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

গত ২৭ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু রায় এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায়কে সভাপতি ও হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র মেডিক্যাল অফিসার (এমওডিসি) ডা.আরিফুল ইসলামকে সদস্য করে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর তদন্ত করেন ওই তদন্ত কমিটি।

তদন্ত শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.দিপংকর রায়। তিনি বলেন, অনুমোদনহীন ক্লিনিক চলার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি টিনশেট ঘরেও ক্লিনিক তৈরীর সুযোগ নেই। তারপরও এ ক্লিনিক চলছে কি ভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রæত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জন বরাবর প্রেরণ করা হবে।