ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলে পরিমলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

নাহিদ সরদার
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২ ৮২ বার পঠিত
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নাহিদ সরদার,বানারীপাড়(বরিশাল)প্রতিনিধি :

বরিশালের বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দিজাল জমা দিয়ে পরিমল রায় নামের এক জেলে অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার বাড়ি উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদবাড়ি (দাসেরহাট) গ্রামে। দেশজুড়ে যেখানে অসাধু জেলেরা বেহুন্দিজাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ডিম ও রেনু পোনা নিধন করছে এবং এসব নিষিদ্ধ জাল জব্দ করতে যেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইলকোর্ট ও পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, সেখানে স্বেচ্ছায় বেহুন্দিজাল জমা দিয়ে পরিমল রায় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কম্বিং অপারেশনের অংশ হিসেবে জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে মৎস্যজীবী পরিমল তার কাছে থাকা বিভিন্ন মাছের রেনু পোনা নিধনে ব্যবহৃত অর্ধ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বেহুন্দিজাল জমা দেন। এ বেহুন্দিজাল দিয়েই পরিমলের ৪ সদস্যের সংসারে কোনোমতে ভরণপোষণ চলছিল। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দিজালটি জমা দেওয়ায় তার সংসারের ভরণপোষণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সে এখন থেকে সৎ পথে আয় করার অঙ্গীকার করেন। এ প্রসঙ্গে পরিমল জানান, উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদবাড়ি (দাসেরহাট) জেলে পল্লীতে মৎস্য অফিসের সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। তাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার হাতে বেহুন্দিজালটি জমা দিয়ে আমি অনিশ্চিত পথে পা বাড়ালেও এখন থেকে সৎভাবে বাঁচতে চাই।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিমল রায় মৎস্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সে তার আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল বেহুন্দি জালটি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। সে যাতে সৎভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য সুতার জাল কিনে দেওয়াসহ তাকে পুনর্বাসনে মৎস্য দপ্তর তার পাশে থাকবে। তার অনুসরণে অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও তাদের চরঘেরা, কারেন্ট ও বেহুন্দি জাল জমা দিলে তাদেরকেও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।

বিজ্ঞাপন




ফেসবুকে আমরা




x

বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলে পরিমলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

প্রকাশিত : ০৭:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২
print news

নাহিদ সরদার,বানারীপাড়(বরিশাল)প্রতিনিধি :

বরিশালের বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ বেহুন্দিজাল জমা দিয়ে পরিমল রায় নামের এক জেলে অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার বাড়ি উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদবাড়ি (দাসেরহাট) গ্রামে। দেশজুড়ে যেখানে অসাধু জেলেরা বেহুন্দিজাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ডিম ও রেনু পোনা নিধন করছে এবং এসব নিষিদ্ধ জাল জব্দ করতে যেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইলকোর্ট ও পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, সেখানে স্বেচ্ছায় বেহুন্দিজাল জমা দিয়ে পরিমল রায় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কম্বিং অপারেশনের অংশ হিসেবে জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে মৎস্যজীবী পরিমল তার কাছে থাকা বিভিন্ন মাছের রেনু পোনা নিধনে ব্যবহৃত অর্ধ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বেহুন্দিজাল জমা দেন। এ বেহুন্দিজাল দিয়েই পরিমলের ৪ সদস্যের সংসারে কোনোমতে ভরণপোষণ চলছিল। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দিজালটি জমা দেওয়ায় তার সংসারের ভরণপোষণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সে এখন থেকে সৎ পথে আয় করার অঙ্গীকার করেন। এ প্রসঙ্গে পরিমল জানান, উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদবাড়ি (দাসেরহাট) জেলে পল্লীতে মৎস্য অফিসের সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। তাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার হাতে বেহুন্দিজালটি জমা দিয়ে আমি অনিশ্চিত পথে পা বাড়ালেও এখন থেকে সৎভাবে বাঁচতে চাই।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিমল রায় মৎস্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সে তার আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল বেহুন্দি জালটি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। সে যাতে সৎভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য সুতার জাল কিনে দেওয়াসহ তাকে পুনর্বাসনে মৎস্য দপ্তর তার পাশে থাকবে। তার অনুসরণে অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও তাদের চরঘেরা, কারেন্ট ও বেহুন্দি জাল জমা দিলে তাদেরকেও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।

বিজ্ঞাপন