ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




নামজারি করতে যা যা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে

মোঃ সুরুজ্জামান ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) :
  • প্রকাশিত : ০৯:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩ ৩১৬৫ বার পঠিত
কালের ধারা ২৪, অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নামজারি করতে যা যা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে

মোঃ সুরুজ্জামান ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) :

বিজ্ঞাপন

জমাজমি ক্রয়-বিক্রয়, খাজনা পরিশোধ, ব্যাংক লোন, রেকর্ড সংশোধন বা রেকর্ডীয় মালিক হতে জমি কর্তন করে ক্রেতার নামে খতিয়ান সরবরাহের জন্য নামজারি অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। বিক্রিত ভূমি বিক্রেতা পুন:রায় যেন ২য় পক্ষের নিকট না বিক্রয় করতে পারে সেজন্যও নামজারি করা আবশ্যক। নামজারি মূলত রেকর্ড হালনাগাদকরন বা সংশোধনকরন।

যেভাবে করে নিবেন আপনার নামজারি এবং যা যা কাগজপত্র লাগবে।

১. মূল দলিলঃ আপনে যেভাবে জমিটি ক্রয় করেছেন যেমন: হেবা, এওয়াজ, হেবাবিল এওয়াজনামা, বণ্টননামা, ওসিওয়্যাতনামা, সাফ-কবলা, দানপত্র, ডিক্রিধারী প্রভৃতি দলিলের ফটোকপি। তবে অবশ্যই সাব-রেজিষ্টার কর্তৃক দলিলটি রেজিষ্ট্রিকৃত হতে হবে।

২. বায়া দলিলঃ যদি জমিটি বায়া হইয়া মানে আপনি যার নিকট হতে জমি ক্রয় করেছেন সে লোক যদি দলিলের মাধ্যমে মূল রেকর্ডের মালিক হতে জমি ক্রয় করে সেই দলিলটি অর্থ্যাত বায়া দলিলটি লাগবে। আবার সে লোক যদি আরো বায়া হইয়া ক্রয় করে তবে সেই বায়া দলিলটিও দিতে হবে।অর্থ্যাত জমির ধারাবাহিক হস্থান্তর বা মিল করার জন্য বায়া দলিল প্রয়োজন হয়ে থাকে।

৩. খতিয়ানঃ বি.আর.এস, আর.এস, বি.এস, এস.এ বা সি.এস খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির ফটোকপি প্রয়োজন। একটি জমির যাবতীয় তথ্যের ভান্ডার বা বিস্তারিত বিবরণই খতিয়ান। বর্তমানে যেহেতু হাল জরিপ হইছে তাই বি.আর.এস, আর.এস বা বি.এস খতিয়ান হইলে তার ফটোকপি। তবে ভিপির সম্পত্তি হইলে বি.আর.এস, আর.এস, বি.এস, এস.এ, সি.এস পর্চার বা খতিয়ান যাচাইযের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

৪. খারিজ খতিয়ানঃ হাল জরিপের খতিয়ান থেকে দলিলমূলে হাল খারিজ করলে সেই খতিয়ানের ফটোকপি প্রয়োজন। তবে পুরাতন খারিজ খতিয়ান বা এস.এ খারিজ খতিয়ান বা পুরাতন দাগে নামজারি করা থাকলে সাধারণত প্রযোজ্য নয়।

৫. ডি.সি.আর বা ডুপ্লিকেট কার্বন কপির রশিদঃ সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক প্রদত্ত নামজারির টাকা প্রদানের রিসিপ্টই ডি.সি.আর। নামজরির প্রমাণক হিসাবে ডি.সি. আর প্রয়োজন। তবে সাবেক ডি.সি.আর বা পুরাতন নামজারির খতিয়ান, ডি.সি.আর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে ভিপি জমির হলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিতে পারেন।

৬.খাজনা পরিশোধের রিসিপ্ট বা দাখিলাঃ নামজারির জন্য খারিজ খতিয়ান হইলে এটি আবশ্যিক। জমি হস্তান্তর করতে চাইলেই মালিকের এটি প্রয়োজন। অনেক সময় নতুন মালিকের ক্ষেত্রে নামজারি না হলে যেহেতু হোল্ডিং খোলা যায় না তাই তার ক্ষেত্রে দাখিলার প্রয়োজন হয় না। তবে মূল মালিকের দাখিলাই আবশ্যিক।

৭. ওয়ারিশান সার্টিফিকেটঃ যদি ওয়ারিশদের সম্পত্তি ক্রয় করা হয় তবে ওয়ারিশান সনদ লাগবে। এক্ষেত্রে ওয়ারিশান সনদ নিতে চেয়ারম্যান বা নগরপিতা বা সিটিকর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত অনধিক তিন মাস সময়ের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হবে। ওয়ারিশান অনুযায়ী বা তার হিস্যানুযায়ী সম্পত্তি হস্থান্তর হইছে কিনা সে অনুযায়ী হিসেব করে সহকারি কমিশনার  (ভূমি) নামজারির আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন। এখানে মনে রাখা দরকার, হাল জরিপের মূল রেকডীয় মালিক থেকে জমি ক্রয় করলে ওয়ারিশান সনদ প্রযোজ্য নয়।

৮. ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রঃ একক বা যৌথ মালিক হলে প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন। বর্তমানে অনলাইন নামজারিতে এটির গুরুত্ব অত্যন্ত। এখেত্রে শুধু ক্রেতার নয় বিক্রেতারও জাতীয় পরিচয়পত্রটি লাগবে। না থাকলে ওয়ারিশান সনদ দিতে হবে।

৯. ছবিঃ নামজারিতে ছবি আবশ্যিক। ছবি না দিলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নামজারি বাতিল করার এখতিয়ার রাখেন। তাই প্রত্যেক দলিল গ্রহীতার পাসপোর্ট সাইজের এক কপি করে রঙ্গিন ছবি লাগবে।

১০. মোবাইল নংঃ আবেদনকারীকে অবশ্যই সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। নামজারির অবস্থা বা আপডেট বা অনলাইনে ওটিপি (অন টাইম পাসওয়ার্ড) প্রদানের জন্য মোবাইল প্র্রয়োজন।  মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে নামজারির আবডেট  জানানো হয়। তাই সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।

১১. স্বাক্ষরঃ পূর্বের ফরমে আবেদনকারীর স্বাক্ষর আবশ্যিক থাকলেও বর্তমানে অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরের প্রয়োজন নাই।

** নামজারির আবেদন করতে জানে এমন কম্পিউটারের দোকান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেক্তা বা নিজে জানা থাকলে আবেদন করুন। আবেদন করার সাথে সাথে অনলাইন ব্যাংকিং বা বিভিন্ন মোবাইল ওয়ালেট দিয়ে আবেদন ফি প্রদান করলে নামজারির ধারাবাহিক কাজ আরম্ভ হবে। মোবাইলে শুনানীর জন্য ম্যাসেজ আসলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নিকট সকল মূল দলিলসহ কাগজপত্র বা সরাসরি অনলাইন শুনানী করলে নামজারি মঞ্চুর বা নামঞ্চুর হবে ।আবেদন মঞ্চুর হলে অনলাইন থেকে নামজারির খতিয়ান, ডি.সি.আর বা পেমেন্ট রিসিপ্ট ডাউনলোড করা যাবে। এক্ষেত্রে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নামজারির আবেদন মঞ্চুর, সার্ভেয়ার কর্তৃক প্রতিবেদন, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিবেন, নাজির কর্তৃক নামজারির চালান গ্রহণ, সার্টিফিকেট পেশকার কর্তৃক সনদ পরিক্ষিত এর কাজ ভূমি অফিসের অভ্যন্তরীন কাজ।

ট্যাগস :




ফেসবুকে আমরা







x

নামজারি করতে যা যা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে

প্রকাশিত : ০৯:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩
print news

নামজারি করতে যা যা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে

মোঃ সুরুজ্জামান ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) :

বিজ্ঞাপন

জমাজমি ক্রয়-বিক্রয়, খাজনা পরিশোধ, ব্যাংক লোন, রেকর্ড সংশোধন বা রেকর্ডীয় মালিক হতে জমি কর্তন করে ক্রেতার নামে খতিয়ান সরবরাহের জন্য নামজারি অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। বিক্রিত ভূমি বিক্রেতা পুন:রায় যেন ২য় পক্ষের নিকট না বিক্রয় করতে পারে সেজন্যও নামজারি করা আবশ্যক। নামজারি মূলত রেকর্ড হালনাগাদকরন বা সংশোধনকরন।

যেভাবে করে নিবেন আপনার নামজারি এবং যা যা কাগজপত্র লাগবে।

১. মূল দলিলঃ আপনে যেভাবে জমিটি ক্রয় করেছেন যেমন: হেবা, এওয়াজ, হেবাবিল এওয়াজনামা, বণ্টননামা, ওসিওয়্যাতনামা, সাফ-কবলা, দানপত্র, ডিক্রিধারী প্রভৃতি দলিলের ফটোকপি। তবে অবশ্যই সাব-রেজিষ্টার কর্তৃক দলিলটি রেজিষ্ট্রিকৃত হতে হবে।

২. বায়া দলিলঃ যদি জমিটি বায়া হইয়া মানে আপনি যার নিকট হতে জমি ক্রয় করেছেন সে লোক যদি দলিলের মাধ্যমে মূল রেকর্ডের মালিক হতে জমি ক্রয় করে সেই দলিলটি অর্থ্যাত বায়া দলিলটি লাগবে। আবার সে লোক যদি আরো বায়া হইয়া ক্রয় করে তবে সেই বায়া দলিলটিও দিতে হবে।অর্থ্যাত জমির ধারাবাহিক হস্থান্তর বা মিল করার জন্য বায়া দলিল প্রয়োজন হয়ে থাকে।

৩. খতিয়ানঃ বি.আর.এস, আর.এস, বি.এস, এস.এ বা সি.এস খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির ফটোকপি প্রয়োজন। একটি জমির যাবতীয় তথ্যের ভান্ডার বা বিস্তারিত বিবরণই খতিয়ান। বর্তমানে যেহেতু হাল জরিপ হইছে তাই বি.আর.এস, আর.এস বা বি.এস খতিয়ান হইলে তার ফটোকপি। তবে ভিপির সম্পত্তি হইলে বি.আর.এস, আর.এস, বি.এস, এস.এ, সি.এস পর্চার বা খতিয়ান যাচাইযের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

৪. খারিজ খতিয়ানঃ হাল জরিপের খতিয়ান থেকে দলিলমূলে হাল খারিজ করলে সেই খতিয়ানের ফটোকপি প্রয়োজন। তবে পুরাতন খারিজ খতিয়ান বা এস.এ খারিজ খতিয়ান বা পুরাতন দাগে নামজারি করা থাকলে সাধারণত প্রযোজ্য নয়।

৫. ডি.সি.আর বা ডুপ্লিকেট কার্বন কপির রশিদঃ সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক প্রদত্ত নামজারির টাকা প্রদানের রিসিপ্টই ডি.সি.আর। নামজরির প্রমাণক হিসাবে ডি.সি. আর প্রয়োজন। তবে সাবেক ডি.সি.আর বা পুরাতন নামজারির খতিয়ান, ডি.সি.আর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে ভিপি জমির হলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিতে পারেন।

৬.খাজনা পরিশোধের রিসিপ্ট বা দাখিলাঃ নামজারির জন্য খারিজ খতিয়ান হইলে এটি আবশ্যিক। জমি হস্তান্তর করতে চাইলেই মালিকের এটি প্রয়োজন। অনেক সময় নতুন মালিকের ক্ষেত্রে নামজারি না হলে যেহেতু হোল্ডিং খোলা যায় না তাই তার ক্ষেত্রে দাখিলার প্রয়োজন হয় না। তবে মূল মালিকের দাখিলাই আবশ্যিক।

৭. ওয়ারিশান সার্টিফিকেটঃ যদি ওয়ারিশদের সম্পত্তি ক্রয় করা হয় তবে ওয়ারিশান সনদ লাগবে। এক্ষেত্রে ওয়ারিশান সনদ নিতে চেয়ারম্যান বা নগরপিতা বা সিটিকর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত অনধিক তিন মাস সময়ের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হবে। ওয়ারিশান অনুযায়ী বা তার হিস্যানুযায়ী সম্পত্তি হস্থান্তর হইছে কিনা সে অনুযায়ী হিসেব করে সহকারি কমিশনার  (ভূমি) নামজারির আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন। এখানে মনে রাখা দরকার, হাল জরিপের মূল রেকডীয় মালিক থেকে জমি ক্রয় করলে ওয়ারিশান সনদ প্রযোজ্য নয়।

৮. ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রঃ একক বা যৌথ মালিক হলে প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন। বর্তমানে অনলাইন নামজারিতে এটির গুরুত্ব অত্যন্ত। এখেত্রে শুধু ক্রেতার নয় বিক্রেতারও জাতীয় পরিচয়পত্রটি লাগবে। না থাকলে ওয়ারিশান সনদ দিতে হবে।

৯. ছবিঃ নামজারিতে ছবি আবশ্যিক। ছবি না দিলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নামজারি বাতিল করার এখতিয়ার রাখেন। তাই প্রত্যেক দলিল গ্রহীতার পাসপোর্ট সাইজের এক কপি করে রঙ্গিন ছবি লাগবে।

১০. মোবাইল নংঃ আবেদনকারীকে অবশ্যই সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। নামজারির অবস্থা বা আপডেট বা অনলাইনে ওটিপি (অন টাইম পাসওয়ার্ড) প্রদানের জন্য মোবাইল প্র্রয়োজন।  মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে নামজারির আবডেট  জানানো হয়। তাই সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।

১১. স্বাক্ষরঃ পূর্বের ফরমে আবেদনকারীর স্বাক্ষর আবশ্যিক থাকলেও বর্তমানে অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরের প্রয়োজন নাই।

** নামজারির আবেদন করতে জানে এমন কম্পিউটারের দোকান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেক্তা বা নিজে জানা থাকলে আবেদন করুন। আবেদন করার সাথে সাথে অনলাইন ব্যাংকিং বা বিভিন্ন মোবাইল ওয়ালেট দিয়ে আবেদন ফি প্রদান করলে নামজারির ধারাবাহিক কাজ আরম্ভ হবে। মোবাইলে শুনানীর জন্য ম্যাসেজ আসলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নিকট সকল মূল দলিলসহ কাগজপত্র বা সরাসরি অনলাইন শুনানী করলে নামজারি মঞ্চুর বা নামঞ্চুর হবে ।আবেদন মঞ্চুর হলে অনলাইন থেকে নামজারির খতিয়ান, ডি.সি.আর বা পেমেন্ট রিসিপ্ট ডাউনলোড করা যাবে। এক্ষেত্রে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নামজারির আবেদন মঞ্চুর, সার্ভেয়ার কর্তৃক প্রতিবেদন, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিবেন, নাজির কর্তৃক নামজারির চালান গ্রহণ, সার্টিফিকেট পেশকার কর্তৃক সনদ পরিক্ষিত এর কাজ ভূমি অফিসের অভ্যন্তরীন কাজ।