ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার ভাঙ্গন অব্যহত

জাহাঙ্গীর আলম বাদল, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত : ০৭:৪১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অগাস্ট ২০২২ ১৬০ বার পঠিত
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার ভাঙ্গন অব্যহত

জাহাঙ্গীর আলম বাদল, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ দিন যতই যাচ্ছে ভাঙনের গতি ততই বেড়েই চলছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ভাঙনে বিলিন হচ্ছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। গোটা বছরের চলমান ভাঙনে নাকাল হয়ে পড়েছে তিস্তা পারের মানুষজন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কারেন্ট বাজার গ্রামের সোলেমান মিয়া জানান, শেষ পর্যন্ত রক্ষা হল না বাপ-দাদার ১০০ বছরের পুরাতন বসত ভিটা। চলে গেল তিস্তার গর্ভে। তিনি বলেন সরকারকে দোষ দিয়ে কি করব। সব দোষ আমাদের কপালের। সবাই আসে দেখে যায়, আর ফিরে আসে না।

উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়য়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। গত ১৫দিন ধরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কারেন্ট বাজার ও চরমাদারী পাড়া এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। এতে করে ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি, ১কিলোমিটার রাস্তা, ২০০ হেক্টর ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ওই এলাকায় ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজারও বসতবাড়ি, ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি ও ২কিলোমিটার রাস্তা।

বিজ্ঞাপন

ডাঙার চর গ্রামের জরিপ উদ্দিন জানান, চরের মানুষজনকে দেখার কেউ নাই। প্রতিবছর নদী ভাঙনের শিকার হয়ে হাজারও পরিবার বাপ-দাদার ভিটা মাটি ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে দিন মজুরের কাজ করছে। অনেকে চরের মধ্যে এপিট ওপিট করে চালাঘর তুলে বসবাস করছে। ভাঙনের শিকার পরিবাগুলোর মানবেতর জীবন যাপনে সকলের সহযোগিতা দরকার।

আরও পড়ুন : ২ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হরিপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জানান, তিস্তার চরের মানুষ আমি। আমি জানি বসত বাড়ি ভাঙনের কষ্ট। গত ২৭ জুলাই চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছি জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত ১৫দিনের ভাঙনে হরিপুরের কারেন্ট বাজার, চরমাদারী পাড়া গ্রামে ১০০ পরিবারের বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পরিবারগুলো মানবের জীবন যাপন করছে। তিনি নদী ভাঙনের তালিকা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠিছেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, হরিপুরের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়ারম্যান ও নেম্বারদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে হাজারও বসতবাড়ি। তিনি বলেন এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জিও টিউব ও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।




ফেসবুকে আমরা







x

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার ভাঙ্গন অব্যহত

প্রকাশিত : ০৭:৪১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অগাস্ট ২০২২
print news

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার ভাঙ্গন অব্যহত

জাহাঙ্গীর আলম বাদল, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ দিন যতই যাচ্ছে ভাঙনের গতি ততই বেড়েই চলছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ভাঙনে বিলিন হচ্ছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। গোটা বছরের চলমান ভাঙনে নাকাল হয়ে পড়েছে তিস্তা পারের মানুষজন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কারেন্ট বাজার গ্রামের সোলেমান মিয়া জানান, শেষ পর্যন্ত রক্ষা হল না বাপ-দাদার ১০০ বছরের পুরাতন বসত ভিটা। চলে গেল তিস্তার গর্ভে। তিনি বলেন সরকারকে দোষ দিয়ে কি করব। সব দোষ আমাদের কপালের। সবাই আসে দেখে যায়, আর ফিরে আসে না।

উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়য়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। গত ১৫দিন ধরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কারেন্ট বাজার ও চরমাদারী পাড়া এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। এতে করে ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি, ১কিলোমিটার রাস্তা, ২০০ হেক্টর ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ওই এলাকায় ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজারও বসতবাড়ি, ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি ও ২কিলোমিটার রাস্তা।

বিজ্ঞাপন

ডাঙার চর গ্রামের জরিপ উদ্দিন জানান, চরের মানুষজনকে দেখার কেউ নাই। প্রতিবছর নদী ভাঙনের শিকার হয়ে হাজারও পরিবার বাপ-দাদার ভিটা মাটি ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে দিন মজুরের কাজ করছে। অনেকে চরের মধ্যে এপিট ওপিট করে চালাঘর তুলে বসবাস করছে। ভাঙনের শিকার পরিবাগুলোর মানবেতর জীবন যাপনে সকলের সহযোগিতা দরকার।

আরও পড়ুন : ২ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হরিপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জানান, তিস্তার চরের মানুষ আমি। আমি জানি বসত বাড়ি ভাঙনের কষ্ট। গত ২৭ জুলাই চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছি জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত ১৫দিনের ভাঙনে হরিপুরের কারেন্ট বাজার, চরমাদারী পাড়া গ্রামে ১০০ পরিবারের বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পরিবারগুলো মানবের জীবন যাপন করছে। তিনি নদী ভাঙনের তালিকা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠিছেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, হরিপুরের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়ারম্যান ও নেম্বারদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে হাজারও বসতবাড়ি। তিনি বলেন এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জিও টিউব ও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।